ধর্মান্ধ

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

ধর্মান্ধ

ধূপকাঠির গন্ধে নয়
পেটের জ্বালায় জেগে ওঠে সকাল—
হতদরিদ্র ঘরের মেয়ে আরতি।
দু’চোখে দুঃস্বপ্নের ছায়া,
হাতে মাটির থালা, শুকনো চোয়াল।

পেটে ক্ষুধার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
আরতির সকাল শুরু হয় পরের দোরে,
এক মুসলিম বাড়িতে বাসন মাজা,
কাপড় কাচার কাজ।
বিনিময়ে জোটে দুমুঠো ভাত—
সেই ভাতে লুকানো দয়ার কবিতা।

কিন্তু হিন্দু সমাজপতিরা
আরতিকে মুসলিম বাড়িতে
খেতে দেবে না, জাত যায়।
তাদের নিয়মে একপাক্ষিক গর্জন,
তোর মেয়েটি কলঙ্কিনী,
তোকে সমাজচ্যুত করবো!
বিধ্বস্ত বাবা টেনে নিয়ে যায় ঘরে,
দুদিন ধরে ভাতের দেখা নেই।

তবু কি থেমে থাকে ক্ষুধা?
চোখের নিচে কালি,
বুকের ভিতর আগুন—
চুপিসারে যায় আবার মুসলিম বাড়ি।
এক জ্যাঠামশাই দেখে ফেলে সব,
ঘৃণার জাল ছুঁড়ে দেয় পেছনে।

গালমন্দ, কলঙ্ক, কান্না—
তবু আরতির মুখে
এক নতুন দীপ্তি,
ভাঙা গলায় নয়,
সোজা চোখে চিৎকার—
উপোসের দিন গুনো ক’জন?
কে এসে দেয় একমুঠো ভাত—
কেন তবে রোষ, যদি ভাত জোটে
এক মুসলিমের দয়ায়?

আমি খাবো, কাজ করবো—
দেখি কে থামায় আমার হাঁড়ির ঢাকনা!
বুকভরা ক্ষুধা নিয়ে,
আরতি দাঁড়ায় সমাজের মুখোমুখি,
সে আর শুধু এক মেয়ে নয়—
একটা প্রশ্নচিহ্ন, একটা বজ্রনিনাদ—
যা ভেঙে দেয় ধর্মের দেয়াল।

এখন আরতি কাঁদে না—
তার চোখে আগুন,
হাতে ভাতের থালা,
কণ্ঠে প্রতিজ্ঞা—
আমিও মানুষ।
তোমরা শুনে রাখ,
আগে মানুষ
পরে তোমাদের ধর্ম আসুক,
দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে।

0

Publication author

offline 3 months

Moktarul

0
আমি ব্যক্তিগত জীবনে একজন এনজিও কর্মী। সাধারনত ফেসবুকে কবিতা লিখি। একসময় এই সাইটের সদস্য ছিলাম। সময়ের অভাবে চালিয়ে যেতে পারিনি। পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য তথ্যাদি ভুলে গেছি। আবার নুতন করে রেজিষ্ট্রেশন করছি। আশা করি কর্তৃ পক্ষ নিরাশ করবেন না। ধন্যবাদ।
Comments: 0Publics: 15Registration: 05-12-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।