![]()
ভাষার সুরসুড়ি
কলমে – সুব্রত পন্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (দ্বিতীয় খণ্ড)
ভাষাও আন্দোলন করে,
লুটোপুটিতে লাফায় এদিক-ওদিক।
পাঞ্জা লড়ে বেহুঁশ,
একটু খোঁচা দিলেই শব্দ করে রসিক রসিক।
মৌচাকের মধু মুখেই ঝরে,
ঠোঁটের কোণে হাসি।
স্বর আর ব্যঞ্জন পিছু হাঁটে,
অ-আ-ক-খ পচা বাসি।
র ড় ঢ় ক্ষ ৺ ঘাড় নাড়ে—
উচ্চারণের ছবি হরর।
ণ ন ৎ হ্র এখন ভাজা পাঁপড়—
মুখে নিলেই কড়কড়।
সন্ধ্যেবেলা ব্যাকরণ —
গুনগুনিয়ে বলে ফেলে পটাপট।
পদাংশে বস্ সোনা,
তলেছলে পঙ্ক্তি মেলাও চটাচট।
চাটুল বুলি জোরে ঢেঁকুর তুলে,
শব্দ দিচ্ছে রসিক হাঁচি।
বাঁশি বাজাই আমি তো ভাই আধুনিক,
বাংলায় চালাই কাঁচি।
আড়চোখে হেসে হিন্দি বলে—
“ম্যায় হুঁ হিরো দিল”।
উড়ে উর্দুর মিঠে গান—
“পেয়ারে পেয়ারে” খিলখিল।
ইংরেজির বড় দেমাক,
ফাদার ব্রাদার মাদারেই— গোল পাকায় বিদেশী।
নিজের মাটির গন্ধেই আমি শ্রেষ্ঠ —
বাংলাতেই আমি স্বদেশী।
তামিল ফিসফিসিয়ে বলে—
“দক্ষিণ”, পালে বাতাস চালায়।
ঠাইঠাই গুড়মুড় ওরে ভাই—
বাংলা দাঁড়িয়ে গামছা গলায়।
বাংলা ঠাট্টা-মশকরায় করে ঝগড়া,
বর্ণেরা সব লুডোর ফাঁদে।
ভরপুর স্বার্থের জনগণ আজ নাক রগড়া,
আজ বাংলা ভাষা কাঁদে।
হামাগুড়িতে ছন্দ—
সুরসুড়িতেই লুকিয়ে আমার আনন্দ।
ভাষার সুরসুড়ি,
ঘাড় ধাক্কা ঝালমুড়ি।
অন্ত্যমিলে মজার ছন্দ।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)