![]()
আহারে! গোলাপ
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — প্রেমের ভোরাই (প্রথম খণ্ড)
গোলাপ, তুমি কেঁদো না— আজ তোমার দিন।
তোমাকে নিয়ে ছিনিমিনি করবে সবাই।
তুমি নিবেদিত হবে পুজোর থালায়— এটা ভেবো না।
তুমি যে প্রতীক— তোমায় হাতে নেবেই।
তোমার আজ বড় দায়িত্ব—
দুটি অশান্ত কচিকাঁচা দুরুদুরু হৃদয়কে শান্ত করানোর।
নির্মল হাসি মুখে—
একটি লাল টকটকে গোলাপে বরণ করিয়ে
গোলাপি ঠোঁটে হাসি ফোটানোর।
গোলাপ, তুমি তো নিজের জন্য ফোটো না—
তুমি তো অপরের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছো।
তুমি নিরন্তর হাসতে থাকো, গোলাপি সৌরভ ছড়াও।
তাই তো তুমি ফেঁসে গেছো— আকালে মরছো।
বুঝবে না, শুনবে না যন্ত্রণা তোমার।
কাঁটার আঘাত তুচ্ছ করে তুলে নেবে—
তুমি যে মনে ধরেছো।
তুমি যে পবিত্র প্রেমের প্রেরণা।
তোমাকেই হতে হবে বাসর ঘরে
বাঁধভাঙা ফুলশয্যার সাক্ষী।
তোড়া হয়ে মনকে দেবে শুভেচ্ছা,
গলার মালা হয়ে থাকবে বীরত্বে,
হবে হৃদয়ের দ্বাররক্ষী।
তোমার ছেঁড়া পাপড়ির সুবাসে
শয্যার সজ্জা হয়ে উঠবে মায়াবী—
মুহূর্তগুলি হবে রঙিন মনোরমা।
কারো খোঁপায় গিয়ে তার রূপ-লাবণ্যকে
মোহময়ী আকর্ষণীয় করে তুলবে—
ওগো অনুপমা।
দুনিয়ায় তোমার জুড়ি মেলা ভার।
গোলাপ, তুমি তো প্রেমিক—
প্রেম নিবেদনের অনুভূতি।
গোলাপ, তুমি তো ফুলের রানী—
তোমার কাছেই অলি আসবে,
জানাবে কত আকুতি-মিনতি।
গোলাপের কত রূপ—
কখনো জল, কখনো আতর।
বাহারি গোলাপ আহারে— স্বাদে গন্ধে ভরপুর।
নষ্টরাও তোমায় নিয়ে নষ্টামিতে মেতে ওঠে—
গোলাপের সম্মতি পেতে বাজায় রিনিঝিনি নুপুর।
আমারও গোলাপ হতে ইচ্ছে করে— তবে ভয় করে।
যদি অভিমানে ছুঁড়ে ফেল চরণতলে?
তোমার ক্ষতি হলেও তুমি মানিয়ে নিতে পারবে—
আমার জীবনটা চলে যাবে রসাতলে।
ছাত্র, রাজা, বাদশা, নবাবের বুকপকেটে থাকতে ইচ্ছে করে।
ইচ্ছে করে শিল্পীর ক্যানভাসে বাঁচতে।
বড় ইচ্ছে করে গোলাপের শিশু হয়ে
রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ি— গোলাপের ছবি আঁকতে।
যদি কেউ তোমায় ছুঁয়ে, সৌরভে আহা! বলে—
গর্বে তো হাসবে— সবাইকে মাতাল করে।
ভাবি— গোলাপ, তুমি কার?
কে তোমার?
কে তুমি?
কেনই বা সাজিয়ে রাখে মনের ঘরে?
ভাবো ভাবো, গোলাপ—
তুমি কখনো সৌন্দর্যের প্রতীক,
কখনো স্নেহের,
কখনো প্রেমের নিশান।
কখনো বাসরঘরের বিছানা,
কখনো ফেসওয়াশ।
আবার লেখো প্রত্যাখ্যানের অভিধান।
গোলাপের প্রেমকাহিনি বিশ্ববন্দিত।
গোলাপকে প্রণাম।
গোলাপি মনে গোলাপকে করি আহ্বান।
বিকশিত হোক দিকে দিকে গোলাপের কর্মকাণ্ড।
বর্ধিত হোক গোলাপের সম্মান।
গোলাপ দাঁড়িয়ে থাকে—
খুশির শত শত রঙ বিলানোর আশায়।
নির্বাকেই হেসে বলে— বাঁচতে চাই!
খুশির দিনে খুশি হয়ে
গাছের সতেজ গোলাপ দিয়ে-নিয়ে
আমিও প্রেম নিবেদন করতে চাই।
গোলাপের বাগান গড়তে চাই—
ছড়াতে চাই সৌন্দর্য।
সৌরভের টানে অলি আসুক গুনগুনিয়ে।
মধু খাক— ক্ষতি নেই।
আদর করবে পাপড়িকে,
হাসিয়ে মারবে গল্প-কবিতা-গান শুনিয়ে শুনিয়ে।
গোলাপের গল্পে বেদনা নেই—
গোলাপে মজে সবাই।
গোলাপ নানা রঙের—
তবু মন টানে লাল গোলাপ।
গোলাপ গোলাপীতে খ্যাত নয়।
দুঃখে আনমনে— “ঠিক তাই!” বলে
মাথা নাড়ে স্নেহের গোলাপ।
মাড়িয়ে যাওয়া গোলাপের কান্নায়
লুকিয়ে থাকে বেদনা—
গুমরে কেঁদেও হাসতে হয়— হায়রে গোলাপ!
তবুও চিরনতুন করে
স্বপ্নের ঘোরে
আবারো পেতে ইচ্ছে করে
একটি লাল গোলাপ।
আহারে! গোলাপ।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)