![]()
উৎসব আবহ
কলমে- সুব্রত পন্ডিত
সংকলন- কাগজ কলম
কল্লোলিনী কোলকাতা, শহর তিলোত্তমাতে তিলোত্তমাকেই নির্যাতন ধর্ষন করে নৃশংস নির্মম ভাবে হত্যা করলে।
চোখ ফেটে রক্ত বের হয়ে ফুলের মতো প্রানটি অকালে ঝরে পড়ল। কেঁদে মরলে কাঁদিয়ে ছাড়লে আন্দোলনে নামালে।
“বিচার চাই” চিৎকারে এগিয়ে চলেছে অনেকে, বিচার বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, এই আবহে উৎসব নিয়ে এলে।
বাঙালির বড়ো উৎসব-এই উৎসব আবহে উদযাপন নিয়ে কিছু বলার নেই, তিথি মেনেই মায়ের আরাধনা।
মাইক গুলি তারস্বরে চিৎকার করে বলবে- আর ঘুমিয়ো না, আর ঘুমিয়ো না- ঘটে গেছে মর্মান্তিক ঘটনা।
পূজারী যখন ঘটের জন্য জল তুলবে একবার মনে হবে- এই জলটি হলো মায়ের রক্ত মেশানো কান্না।
বাঁচাতে পারিনি বাঁচাতে পারিনি বিচার চাই বিচার চাই বলেই আর্তনাদ করবে ঢাকের বাজনা।
পূজা মন্ডপে ঘটের জলে মন্ত্র উচ্চারণে পূজারীগণ হাজার চেষ্টা করবে মেয়েটির প্রান ফিরিয়ে আনার।
সিঁদুর দান করতে গিয়ে লাল চাপ চাপ রক্ত দেখতে পাবে, রক্ত তিলক পরিয়েই বলবে- প্রতিশোধ নাও অবমাননার।
ঘন্টা নেড়ে- ফুল বেল পাতা গুলি শুধু তুলবে আর ছুঁড়বে- তুলবে আর ছুঁড়বে, বলবে- জাগো মা জাগো করো ভয় মুক্ত।
করজোড়ে প্রার্থনা করবে- সুন্দর শাড়িতে সেজেগুজে নানা প্রসাদ ডালার সেলফির ভেল্কিতে সবাই আজ বড়ো আসক্ত।
শুভ বুদ্ধি দাও জাগ্রত করো নারীদের মাগো, তোমার অস্ত্রগুলি দশ দিকের দশ নারীদের দিয়ে প্রস্তুত করো যুদ্ধ ক্ষেত্র।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন করে মহাকালের যুদ্ধ আবারও শুরু করো, এ যুদ্ধে নারীরাই যোদ্ধা- ঝুঁকাবেনা তাদের নেত্র।
সন্ত্রাসী অপরাধী রক্তলোলুপ কামুক স্বেচ্ছাচারী স্বৈরাচারী ব্যভিচারী পাষণ্ড মানুষদের ধ্বংস কর।
ধ্বংস কর যত অনাচার, ওদের বুকে ত্রিশূলের আঘাত হান, মাথা কর খান খান- মান রাখ ভক্তর।
শিল্পের নিদর্শনে সজ্জিত ছোট বড়ো প্যান্ডেল গুলি ভারাক্রান্ত মনে দাঁড়িয়ে জানাবে- অবসান হোক তর্ক-যুক্তির।
কর ভক্তির পথে আজ আরাধনা শক্তির, নিজেরাই শক্তিধর বুদ্ধি ধর না হলে খুঁজে পাবে না পথ মুক্তির।
মানুষ হয়ে মানুষকে দেওয়ার যন্ত্রনা থামবে!- একমাত্র মানুষ সচেতন হলে, বিবেক-বিবেচনার মূল্যবোধ জাগালে।
বিসর্জনে জলে তলিয়ে যেতে যেতে মূর্তিগুলি জিজ্ঞেস করবে- অর্থ কি আহ্বান-বিসর্জনের। পুজো করে কি পেলে??– কি পেলে ——–
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)