ভালোবাসায় নেই ব্যথা

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

ভালোবাসায় নেই ব্যথা
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — প্রেমের ভোরাই (প্রথম খণ্ড)
-+
(১)
আজ ভেসে গেছে দুই কূল,
তবুও বকুলের তলায় গুমোটে গুমরায় স্নেহের গোকুল।
প্রকৃতির নিয়মেই দিনে ফুটে রঙিন রকমারি ফুল,
আবার রাতে ফোটে সাদা স্নিগ্ধ ফুল।

সাদা ফুলের মনমোহিনী সুবাস,
রঙিন ফুলের চোখ জুড়ানো বাহার।
বাতাসে দুই ফুলই দুলে দুলে কতো কথা বলে—
সঙ্গীর সাদর সম্ভাষণের রীতি, রেওয়াজ— যে যার।

নিয়ম করে প্রতি প্রভাতে
উঠেই আমার ভোরাই কে হন্যে হয়ে বারবার আমি খুঁজি।
রূপ-রস-গন্ধ-সৌন্দর্যের নানা ইশারা—
তার অসীম পুঁজি।
তাইতো অন্তর থেকে আজও তারে পুঁজি।

নিয়ম করেই আশা-প্রত্যাশার চড়াই-উতরাই,
জীবনের উত্থান-পতন, উন্নতি-অবনতির স্রোত বইছে।
স্রোতের অনুকূলে কখনো,
কখনো স্রোতের প্রতিকূলে—
সংসার নদে সবাই প্রাণপণে সাঁতার কাটছে।

মনের সাধ পূরণ হয়েও যেন হয় না পূর্ণ,
মন থাকতে চায় চিরসবুজ, চিররঙিন, চিরনবীন।
মন্দিরসম দেহ—
মনের সাথী হয়েও অবশেষে
অবসন্ন, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে হচ্ছে প্রবীণ।

মন আর দেহ— দুই মন্দিরের মেলবন্ধনে
জন্ম পায় পবিত্র প্রেম, স্বপ্ন, আশা আর ভালোবাসার।
ভালো লাগে যখন দেখি—
ভালোলাগাগুলো ভালোবাসার পূর্ণতা পেয়ে
চেষ্টা করে ঘর বাঁধার।

কারো ঘর পাকা হয়,
কারো ঘর ঝড়ে ভেঙে যায়।
সবাই তখন ভাঙা-গড়াকে
নিয়তির খেলা বলেই মেনে নেয়।
তুচ্ছ আবেগ, তুচ্ছ বিবেক—
মায়া-মমতায় ভরা ক্ষণিক জীবনের মুহূর্তগুলো
একদিন অতীব তুচ্ছ মনে হয়।

অবশেষে ভোরাই-এর আবেশ
সকাল-দুপুর বেয়ে গোধূলির গগনে এলো।
শেষ বেলায় দিগন্তে দিগন্তে
ভোরাইয়ের মতোই গোধূলির সৌন্দর্য ফুটে উঠল।
সাঁঝবেলায় সাঁঝের ফুলেতে ভ্রমর গুনগুনিয়ে এলো-
তবুও নিরাপদ স্থানে তাড়াতাড়ি ফিরে গেল।
(২)
অপরূপ লাল আভায়
ভোরাই ও গোধূলি
ছন্দে ছন্দে প্রতিদিন
মনের কথা দ্রুত বলে ফেলে।
ভোরাই আমার প্রথম প্রেম,
গোধূলি আমার শেষ প্রেম—
জেনেও নিশুতি রাতে,
চাঁদনী, তুমি কেন এলে?

চাঁদনী, তুমি এসে
এই জোছনায় প্রেমের ভেলায়
আমায় তুলে কোথায় নিয়ে চললে?
গ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ, সুশোভিত তারা,
চাঁদ-ভরা রাতে
কতো লীলা ভালো লাগে— জানালে।
পাপ-পুণ্যের লেনা-দেনা,
ঘুটঘুটে অন্ধকারে জোনাকির আলোক-রেখা,
নিশাচর প্রাণীর সংগ্রাম— তুলে ধরলে।

রক্তে-মাংসে গড়া শরীরটাই যত নষ্টের আধার।
সব পেয়ে, সব হারিয়ে—
আবারও মুক্তি চাইছে।
ভোরাই নীরবে ব্যথা চেপে হাসছে,
গোধূলি কান্না চেপে বিদায় জানাচ্ছে,
চাঁদনী প্রেম পেতে চাইছে।

ওদের দেখেই গেলাম,
কাছে পেয়ে ধন্য হলাম—
তবুও ভালোবাসি কাউকেই বলা হলো না।
মরণ হঠাৎ এসে
মৃত্যুর ওপারের দরজা খুলে দেবে,
আর থাকা যাবে না।

ওদের ভালোবাসা দিতে পারলাম না—
এ জন্মটাই হলো বৃথা।
ক্ষণিকের জীবন— সময় কম—
দরজা খুলে গেছে,
যেতে তো হবেই—
এই-ই আসল চরমতম কথা।

প্রেম অসীম— যার ব্যাখ্যা হয় না,
শুধু অনুভবে অনুভূতিতে আসে।
আমিও নীরবে ভালোবেসেছি— সত্য কথা।
অনুভূতিহীন সমাজে
স্নেহের গোকুল, প্রেমের ভোরাই,
যৌবনের গোধূলি—
আমি আর চাঁদনী আজ বড় একা।

অনুভূতি ফিরে আসুক—
আবারও হবে দেখা,
ছুটবে হাসির ফোয়ারা।
প্রমাণিত হবে—
“ভালোবাসায় নেই ব্যথা।।”

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 90Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।