![]()
দেশটা জ্বলত দখলদার বুটে,
দেশটা কাঁদত রক্তমাখা পথে।
আকাশ জুড়ে জ্বলত গোলার আগুন,
মাটির নিচে লুকাত স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ গুণগুণ।
গ্রামের ভিটে পোড়াত আগুনের হাহাকার,
মায়ের চোখে জমত অগণিত অশ্রুধার।
নদীর বুকে ভাসত অচেনা কত লাশ,
বাংলার হৃদয়ে জমত নিঃশব্দ প্রতিবাদ–ভাষ।
কিশোর হাতে বইয়ের বদলে বন্দুক,
তার চোখে লিখা— “আর পরাজয় নয়, শুধু মুক্তি সুখ।”
পথের ধুলায় গেরিলা ছুটে যেত, রাতের অন্ধকার চিরে,
“জয় বাংলা” ডাক উঠত, গুলির শব্দ মিশে যেত নীরবে ঘিরে।
শহরের গলি, সীমান্তের মাঠ, চৌকিতে ভাঙা রাত,
সবখানে লেখা ছিল একটাই কথা— “স্বাধীনতার প্রভাত।”
মুক্তিযোদ্ধার ক্ষুধার্ত গায়ে কাঁথা ছিল না, ছিল শুধু শপথ,
“এই মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস, তবু স্বাধীনতার হোক জন্মরথ।”
কেউ ফিরেনি ঘরে, কারও নাম নেই শহীদ তালিকায়,
তবু তাদের রক্তে রাঙা পতাকা উড়ে আকাশের বাতাসায়।
ডিসেম্বরের বিজয়-হাসি যখন ছড়িয়ে গেল গ্রাম থেকে নগরে,
লাল সবুজ পতাকায় সূর্য উঠল, স্বাধীনতার প্রথম ভোরে।
এই মাটি আজ যে স্বাধীন, এ ভাষা আজ যে মুক্ত,
তার প্রতিটি বর্ণে লেখা আছে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত।
তাই আজও যখন অন্যায় দেখে বুকের ভেতর জ্বলে আগুন,
মনে হয়, আমাদের শিরায় বয়ে চলে মুক্তিযুদ্ধেরই ধ্বনি আর ধ্বংসের মধ্যের গুণ।
—
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)