![]()
রাখি ও বন্ধন — রাখিও বন্ধন
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (দ্বিতীয় খণ্ড)
“জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ”—
দুটি জাতির পুনর্মিলনে,
রবি ঠাকুরের একতার উৎসব— রাখী বন্ধন।
সম্প্রীতির ঐক্য, সাম্যের গান—
আর নয় ব্যবধান,
শুধুই আনন্দদানে পরস্পরের রেখো মান।
শ্রাবণী পূর্ণিমায় পুনর্মূল্যায়ন—
রাখী হলো সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
সম্প্রীতির সুতোয় বেঁধে
বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতি।
দিদি-বোনের রক্ষার্থে দাদার শপথ,
ভাইয়ের শপথ হোক সর্বস্তরে—
আরো আরো নব নব অগ্রগতি।
কর্ণবতী ও সম্রাট হুমায়ুন,
রাজা পুরু আর আলেকজান্ডারের পত্নী রোজানা—
রাখী নিয়েই কথিত আছে ঐতিহাসিক কাহিনি।
রাখীর সহজ সুতোটিই
দুটি সম্পর্কের পবিত্র ভালোবাসার প্রতীক;
পবিত্র বন্ধনের কাছে পরাস্ত অশুভ বাহিনী।
দ্রৌপদী শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে
কৃষ্ণের রক্তাক্ত হাতে বাঁধেন—
এই বাঁধনের প্রতিদানে
রুখে যায় বস্ত্রহরণ, বাঁচে সম্মান।
“বাঙালি প্রাণ, বাঙালির মন,
বাঙালির ঘরে যত ভাই-বোন—
এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান”—
এটাই চির আহ্বান।
ভাতৃদ্বয়— শুভ ও লাভের হাতে
পবিত্র রাখী বাঁধেন স্বয়ং মা সন্তোষী।
এই রাখীর কারণেই দেবীর আগমন।
দৈত্যরাজ বলির কাছ হতে
বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরিয়ে আনার কান্ডারিও এই রাখী;
সর্বত্যাগী হয়ে বলি হলেন ভাগ্যবান।
শচী রক্ষাসূত্র বেঁধে
স্বামীকে যুদ্ধে করেছিলেন প্রেরণ।
বৃত্রাসুরকে পরাজিত করে
স্বামী ইন্দ্র ফেরেন— বলছে পুরাণ।
“প্রভু, আজি দক্ষিণ হাত রেখো না ঢাকি,
এসেছি তোমারে, হে নাথ, পরাতে রাখী”—
আজ যে রাখী বন্ধন।
সবুজের আহ্বানে
স্বামী-স্ত্রীও একে অপরকে রাখী পরায়,
অটুট রাখতে জীবন্ত ভালোবাসা।
সবাই যেন হাসি-খুশি থাকতে পারি,
ভালোই কাটুক— শুভ রাখী বন্ধন।
এই আশা, এই দেশ— আমাদের ভালোবাসা।
ভালোবাসার প্রতিদানে,
বিশ্বাসে অনাবিল আশ্বাসে—
সবাই সবাইকে নির্বিঘ্নে
রাখী পরাতে পারে—
এটাই ঐতিহাসিক কিংবদন্তি।
অবসান হোক সংক্রমণ-সংক্রান্তির,
মিটুক যত আছে ছোট-বড় ভুলভ্রান্তি,
আসুক এক নির্ভেজাল ক্রান্তি।
রাখী ভালো থাক, বন্ধনও ভালো থাক।
রাখী ও বন্ধন কখনোই চায় না অশান্তি।
রেখো বন্ধন— আসুক শান্তি।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)