সম্মানের অবশিষ্ট (Sommaaner Oboshishto)

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

সম্মানের অবশিষ্ট
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত

একদিন
স্কুলের উঠোনজুড়ে দাঁড়াতেন তাঁরা—
চোখে আলো, কণ্ঠে দৃঢ়তা,
ভবিষ্যত গড়ার প্রতিটি ইট
নিজের হাতেই সাজিয়ে দিতেন
ছোট ছোট স্বপ্নের ঘরে।

আজ সেই মানুষগুলোই
সন্দেহের তীর বুকে নিয়ে হাঁটেন,
যে আঙুল একদিন
তাদের সম্মানের আলোয় নত হয়েছিল—
সেই আঙুলই আজ
তোলা হয় উপহাসে, নালিশে, অভিযোগে,
মনে হয় তারা নাকি
মানবতার অতীতের কোনো গল্প।

যাদের কথায়
আমরা প্রথম ‘মানুষ’ হওয়া শিখেছি—
আজ সেই কথাই ফিরিয়ে দেই
বিদ্রূপের ধুলো মেখে,
হাসির কৌতুক বানিয়ে
তাদের চোখে চোখ রাখার
মানসিকতাটুকু হারিয়ে।

শেষ বিকেলে
বাড়ি ফেরেন এক শিক্ষক—
ব্যাগটা একটু ভারী লাগে,
কারণ বইয়ের নয়,
অকারণ অপমানের ওজন
হাঁটুগুলোকে ক্লান্ত করে তোলে।
ঘরে ঢুকে সন্তানের মাথায়
হাত রেখে তিনি বলেন,
“পড়াশোনা করো… মানুষ হও…”
কিন্তু তারই বুকের ভেতর
চাপা কান্না শ্বাস ফেলে—
“মানুষকে মানুষ বানাতে গিয়ে
আজ আমি নিজেই মানুষ রইলাম কোথায়?”

সন্ধ্যার আলো ঝিমিয়ে পড়ে,
দেয়ালের ঘড়িও যেন
একটু দুঃখী শব্দে টিকটিক করে।
সম্মানের রোদ
ধীরে ধীরে ঢেকে যায় মেঘে—
যেন একজন শিক্ষকের মর্যাদা
অকারণ অভিযোগের ছায়ায়
ধীরে ধীরে হারাতে থাকে।

আর আমরা?
আমরা দাঁড়িয়ে দেখি—
নীরবতার ভিড়ে
আরো একটি মুখ চূর্ণ হয় অবহেলায়,
যদিও কাঁদার কথা ছিল
সবার আগে আমাদেরই,
তবুও জল আসে না
কারণ অভ্যেসের দেয়াল
অনুভূতিকে আটকে রাখে।

শেষে থাকে শুধু হাহাকার—
অকারণ অপমানে বাঁধে বুকের কষ্ট,
মুখে কেউ কিছু না বললেও
সবটাই আজ হয়ে ওঠে বড়ো পষ্ট,
মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়
সম্মানের অবশিষ্ট।।

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 90Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।