![]()
ধর্মান্ধ
ধূপকাঠির গন্ধে নয়
পেটের জ্বালায় জেগে ওঠে সকাল—
হতদরিদ্র ঘরের মেয়ে আরতি।
দু’চোখে দুঃস্বপ্নের ছায়া,
হাতে মাটির থালা, শুকনো চোয়াল।
পেটে ক্ষুধার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
আরতির সকাল শুরু হয় পরের দোরে,
এক মুসলিম বাড়িতে বাসন মাজা,
কাপড় কাচার কাজ।
বিনিময়ে জোটে দুমুঠো ভাত—
সেই ভাতে লুকানো দয়ার কবিতা।
কিন্তু হিন্দু সমাজপতিরা
আরতিকে মুসলিম বাড়িতে
খেতে দেবে না, জাত যায়।
তাদের নিয়মে একপাক্ষিক গর্জন,
তোর মেয়েটি কলঙ্কিনী,
তোকে সমাজচ্যুত করবো!
বিধ্বস্ত বাবা টেনে নিয়ে যায় ঘরে,
দুদিন ধরে ভাতের দেখা নেই।
তবু কি থেমে থাকে ক্ষুধা?
চোখের নিচে কালি,
বুকের ভিতর আগুন—
চুপিসারে যায় আবার মুসলিম বাড়ি।
এক জ্যাঠামশাই দেখে ফেলে সব,
ঘৃণার জাল ছুঁড়ে দেয় পেছনে।
গালমন্দ, কলঙ্ক, কান্না—
তবু আরতির মুখে
এক নতুন দীপ্তি,
ভাঙা গলায় নয়,
সোজা চোখে চিৎকার—
উপোসের দিন গুনো ক’জন?
কে এসে দেয় একমুঠো ভাত—
কেন তবে রোষ, যদি ভাত জোটে
এক মুসলিমের দয়ায়?
আমি খাবো, কাজ করবো—
দেখি কে থামায় আমার হাঁড়ির ঢাকনা!
বুকভরা ক্ষুধা নিয়ে,
আরতি দাঁড়ায় সমাজের মুখোমুখি,
সে আর শুধু এক মেয়ে নয়—
একটা প্রশ্নচিহ্ন, একটা বজ্রনিনাদ—
যা ভেঙে দেয় ধর্মের দেয়াল।
এখন আরতি কাঁদে না—
তার চোখে আগুন,
হাতে ভাতের থালা,
কণ্ঠে প্রতিজ্ঞা—
আমিও মানুষ।
তোমরা শুনে রাখ,
আগে মানুষ
পরে তোমাদের ধর্ম আসুক,
দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)