![]()
সাধুর বেশে ইতর এসেছে দেশে,
গলায় জপমালা, হাতে ত্রিশূল, চোখে ধূর্ত দীপ্তি—
তার পদচারণা যেন মন্ত্রপূত বিষ।
চরণতলে পুষ্প নয়, রক্তগন্ধ লুটায়;
আর আশীর্বাদের নামে সে চুষে নেয় আত্মা।
চতুর জিহ্বায় ছলনার বর্ণমালা,
ধর্মের ব্যাখ্যা আজ তার খাঁচার পাখি
উড়ে না, গান গায় না, শুধু নাচে ইশারায়।
বিলিয়ে দেয় ‘প্রশান্তি’, ছদ্মবেশী ধোঁকায়,
নামে ‘নিরাময়’ দিয়ে বিকোয় বিষাক্ত ভক্তি।
লোকালয় জুড়ে সে এক নতুন গ্রন্থ রচনা করে—
পাপের পৃষ্ঠায়, মিথ্যার অক্ষরে,
আর তার শিষ্যরা মুখস্থ করে নীরবে।
যে প্রশ্ন তোলে, সে হয় ‘অবিশ্বাসী’,
জ্ঞান হয়ে ওঠে ‘বিপথগামী’,
স্বাধীনতা যেন এক ব্যাধির নাম।
তার আশ্রমে কেবল গন্ধ ধূপ নয়—
আছে হঠাৎ নিখোঁজ কিছু কিশোর মুখ,
আছে স্তব্ধ মা, আতঙ্কিত চোখ,
আছে বহু অন্ধকার, মুখ বুজে চেপে রাখা।
হে প্রজারাজ্য, কবে চিনবি মুখোশের নিচে চামড়া?
কবে বলবি—
যা তুই সাধু সাজিস, তা এক প্রতারকের নাটক?
এই যে আরতির আলোয়
ঢেকে দেওয়া শকুনের চোখ,
কবে থামবে তার অভিশপ্ত ঊর্ণা?
সাধুর বেশে ইতর এসেছে দেশে—
এ সে দিন নয়, যখন চুপ থাকা পুণ্য।
এবার উচ্চারণ করো—
প্রতিরোধই প্রার্থনা।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)