![]()
আমি এমন এক দুঃখের নাম লিখেছি ধুলোর উপরে, যে দুঃখের কোনো ভাষা নেই অভিধানের ভিতরে; যেমন নদী হারিয়ে গেলে মানচিত্রের বুক থেকে, গ্রাম কাঁদে নীরবে তার শৈশব হারানোর শোকে।
যে মেয়েটি একদিন বলেছিল— ফিরবে, আজ তার স্মৃতি আমার জানালায় সন্ধ্যা হয়ে ঝরে; আমি আজও দরজা খুলি, বাতাস ঢোকে ঘরে, শুধু তার পায়ের শব্দ আসে না আর ফিরে।
হে জীবন, তোমার কাছে আমার একটি প্রশ্ন— কেন ভালোবাসার মানুষই হয় সবচেয়ে দূরের জন? কেন বুকের ভিতর এত সমুদ্র রেখেও মানুষ তৃষ্ণায় মরে, এক ফোঁটা স্নেহের আশায়?
আমি কোনো মহাকাব্যের নায়ক নই, আমার নামে যুদ্ধ থামে না, ইতিহাসও লেখা হয় না; আমি কেবল এক পরাজিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস, যার কান্না শুনে রাত ছাড়া কেউ জেগে ওঠে না।
তবু আমি লিখব— যতদিন আকাশের বুকে একটি নক্ষত্র জ্বলে, যতদিন মৃত নদীর বুকে বৃষ্টিরা কথা বলে; আমার সমস্ত ক্ষত একদিন কবিতা হয়ে উঠবে, আর আমার নীরবতা পৃথিবীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
কারণ আমি জানি, মানুষ মরে গেলে তার শরীর মাটিতে মেশে, কিন্তু কিছু দুঃখ মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে— কোনো এক কবির কলমে, কোনো এক প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাসে, কিংবা পরিত্যক্ত কোনো চিঠির শেষ পঙ্ক্তিতে।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)