![]()
না, করবো না আর তোমার ব্যাকরণ,
কারণ ব্যাকরণ মানে কাঠামো,
আর কাঠামো মানে— শৃঙ্খল।
তোমার ভাষা এক কারাগার,
যেখানে প্রেমও এক রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা,
নিবন্ধিত, অনুমোদিত, ধার্যকৃত।
তোমার চাওয়ার ভিতরে
ছিল কেবল রূপ, ভূমিকা, ভূমি—
একটি নাম, একটি শরীর,
একটি কণ্ঠ, যা শুধু তোলে সুনির্দিষ্ট উচ্চারণ।
কিন্তু আমি কি শুধু উচ্চারণযোগ্য?
আমি কি কেবল উচ্চারণযোগ্য ভালোবাসা?
না—
আমি সেই অস্ফুট আহ্বান,
যাকে গিলে ফেলে নির্জন আকাশ
রাত্রির গভীরতম প্রহরে।
আমি সেই ভুলে যাওয়া ভাষা,
যাকে বর্ণমালার বাইরে রেখে আসে ইতিহাস।
আমি সেই কাঁপন—
যা শরীরের না, আত্মার;
যার উৎসে কোনো ব্যাকরণ যায় না পৌঁছাতে।
তোমার ব্যাকরণ চায় ‘কার্যকারণ’,
তুমি চাও—
“ভালোবাসো” মানে “প্রমাণ করো”,
“থাকো” মানে “আমার মতো থেকো”,
“তুমি” মানে “আমার অংশ হও”।
কিন্তু আমার অস্তিত্ব—
তাকে কোনো ‘প্রমাণ’ স্পর্শ করে না,
সে এক অনুবাদহীন উন্মাদনা,
যেখানে ভাষা নিজেই ভুলে যায় নিজেকে।
তাই এবার আমি ছিঁড়ে দিয়েছি সেই সব ব্যাকরণ,
ফুঁড়ে দিয়েছি প্রেমের শুদ্ধ বানান,
ভেঙে ফেলেছি সকল সম্ভাষণ—
কারণ আমি আর কারও ভাষায় নিজেকে ডাকবো না।
আমি এখন এক নামহীন নীরবতা
যা ভালোবাসে না, ভালোবাসাও চায় না,
শুধু জেগে থাকে সেই শূন্যতার কিনারে,
যেখানে ব্যাকরণ নয়,
শুধু প্রলয়ের মতো এক অনুভব—
ধ্বংস আর জন্মের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)