![]()
শুনতে ভালো লাগে— “শুভ জন্মদিন”
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (প্রথম খণ্ড)
আমার জন্মদিনে “শুভ জন্মদিন”—
দুই শব্দের অনেক অনেক শুভেচ্ছাবার্তা আসে আমার কাছে।
শুভেচ্ছার বিনিময়ে জানায়—
বাঁচবি ক’দিন, হেসে-খেলে জীবন কাটাও আবার।
আমার জন্মদিনে আমায় জন্ম দিতে—
প্রথম সেদিন জন্মদাত্রীর গড়িয়েছিল চোখের জল।
আবার সেই জন্মক্ষণে—
জন্ম-কান্নাতেই গোটা পরিবার হেসেছিল,
পেয়ে আগামীর বল।
বাবা হওয়ার অপার আনন্দে
বাবা আমার মৃদু মুচকি হেসে,
অতি আগ্রহে অপেক্ষা করেছিল কোলে নেওয়ার।
কেমন করে নেবে কোলে—
ভেবে ভীত হয়েও,
ভালোবাসার প্রতীকে চুম্বনচিহ্ন এঁকেছিল
আগে সবার।
প্রতিটি জন্মদিন—
পরিবারের কাছে হয়ে ওঠে সুদিন।
জন্মদিনই মনে করিয়ে দেয়
সমাজের নেওয়া ঋণ।
ঋণ শোধের ক্ষমতা অর্জনে ব্রতী আমি,
সবার কাছে সতত আমি অধমর্ণ—
তবুও অন্তর্নিহিত স্বাধীন।
জানিনা—
কবে পালন হবে আমার শেষ জন্মদিন।
শেষ ঠিকানার খোঁজে এগিয়ে চলেছি প্রতিদিন।
শুভ জন্মদিনটি পালন করো—
বেঁচে আছি যতদিন।
হাসিমুখে যেন সইতে পারি,
বইতে পারি খারাপ-ভালো দিন।
আশীর্বাদে ভালো থাকি, সুস্থ থাকি
আর কটা দিন।
সবার মুখে হাসি ফোটানোর আশায়
রইবে মোর শেষতম দিন।
সবাই ভালো থেকো— আমি ভালো আছি।
এ জগতে দু’দিনের খেলা, ঘরে আমি।
ঠাঁই এ জগতে আমার আর ক’দিন।
আমিও যে তোমার মতো সুন্দর।
ধরার ঋণ শোধ করে চলে যাব একদিন।
ওগো, আমায় মনে রেখো চিরদিন।
ব্যস্ততার মাঝেও চরম ব্যস্ত থাকি এই দিন।
বছর শেষে আবারও ঘুরে ফিরে আসবে
আমার জন্মদিন।
বারে বারে ফিরে এসে
ফিরে দেখায় কত কিছু—
ওগো প্রিয়, আমার জন্মদিন।
শুনতে ভালো লাগে—
“শুভ জন্মদিন”।
শুনতে ভালো লাগে—
“শুভ জন্মদিন”।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)