![]()
গেহলাউরের শুকনো মাটিতে,
দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে হাঁটতেন এক দরিদ্র মানুষ—
দশরথ মাঞ্জি, হাতে ফাটা কুড়াল, কাঁধে রোদে পোড়া চামড়া,
মাথার ঘামে জ্বলত একটুকরো সূর্য।
তাঁর ঘর ছিল মাটির,
তবু তার চেয়ে মজবুত ছিল তাঁর মন।
স্ত্রী ফালগুনি দেবী হাসতেন,
আর সেই হাসির আলোয় তিনি দেখতেন ঈশ্বর।
একদিন, সেই আলো নিভে গেল—
একটি দুর্ঘটনায়, পাহাড়ের পাথরে আটকে,
ফিরে এল না প্রিয় মুখটি,
ফিরে এল না জীবনের মধুর গান।
দশরথ তখন নিঃশব্দে দাঁড়ালেন পাহাড়ের তলায়,
যেন প্রশ্ন করলেন—
“তুই কে যে আমার ভালোবাসা কেড়ে নিলি?”
পাহাড় নীরব, কিন্তু তাঁর চোখে জ্বলে উঠল প্রতিজ্ঞা।
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর—
একাকী মানুষটি কেটে চলল সেই পাথরের বুক,
একটা কুড়াল, একমুঠো ভাত, আর অবিরাম ইচ্ছাশক্তি নিয়ে।
সূর্য অস্ত গেছে, বৃষ্টি ঝরেছে,
গ্রামের মানুষ বলেছে— “পাগল!”
তবু তিনি হাসলেন, বললেন— “হ্যাঁ, ভালোবাসার পাগল আমি।”
বাইশটি বছর!
এক, দুই নয় — পূর্ণ বাইশটি দীর্ঘ বছর!
রোদে, বৃষ্টিতে, ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়,
প্রতিটি আঘাত ছিল তাঁর প্রেমের প্রার্থনা।
প্রতিটি পাথর ভাঙার শব্দে তিনি শুনেছেন
ফালগুনির হাসির প্রতিধ্বনি।
অবশেষে, যখন শেষ পাথরটি ভাঙল,
তখন পথ তৈরি হল—
একটা পথ, যেখানে মৃত্যু থেমেছিল,
আজ জীবন চলে হেসে।
মানুষ এলো, সরকার এলো,
ক্যামেরা এলো— কিন্তু তিনি তখনও মাটিতে বসে ছিলেন,
দু’চোখে শুধু এক প্রশ্ন—
“এত দেরি কেন করলে ওরা বুঝতে?”
তিনি ছিলেন না কবি, তবু তাঁর হাত লিখেছিল এক মহাকাব্য,
যেখানে প্রেমই ছিল কলম, আর ইচ্ছাশক্তিই কালি।
আজও সন্ধ্যার বাতাসে,
গেহলাউরের গলিতে কেউ যদি ফিসফিস করে—
“মানুষ কী পারে পাহাড় ভাঙতে?”
উত্তর আসে—
হ্যাঁ,
যে ভালোবাসে, সে পারে।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)
Darun kobita