![]()
ভিটে
কলমে— সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন— প্রতিধ্বনির পরে
যে ঘরের দেওয়ালে—
পেন্সিলে এঁকেছিলাম স্বপ্ন…
আজ সেখানে—
শ্যাওলা জমে।
তবু চোখ বুজালেই দেখি—
ছোট্ট আমি।
আম-পেয়ারা-বটের ডালে ডালে
ঝুলে আছে কত অম্ল-মধুর স্মৃতি,
মাটির গন্ধে আজও যেন
জেগে ওঠে—
সেই টুকরো গভীর প্রীতি।
কত দূরে চলে এসেছি আজ…
তবু আমার ঠিকানা
লুকিয়ে আছে—
সেই মাটির এক মুঠো ধুলো ঘিরে।
ভিটে তো শুধু বাড়ি নয়,
ভিটে মানে শিকড়…
যেখানে হারিয়ে গেলেও
নিজেকেই ফিরে পাই—
অশ্রুসিক্ত, অথচ নিখুঁত।
ভিটে মানে সেই মাটিটুকু—
যেখানে প্রথম পড়েছিল পা,
যেখানে কাঁদলে ছুটে আসত মা।
বাবার কাঁধের স্বাদে নির্ভয় হাসি,
যেখানে হারিয়ে গিয়েও
নিজেকে বারবার ভালোবাসি।
ভিটেও বিক্রি হয়ে যায়,
বদলে যায় ভিটের চেহারা…
কাগজে অন্য কারও নাম,
কাগজই জানে কত জন্মের সম্পর্ক,
কতজনের ছিল
প্রাণের প্রিয় ধাম।
এই ভিটের প্রতিটি ধুলো চেনে—
ছেলে-মেয়ের ছোট্ট পায়ের ছাপ।
কত সকাল, কত দুপুর, কত বিকেল
কাটিয়েছে তাদের সঙ্গে,
হই-হুল্লোড়, হাসি আর চুপচাপ।
তারপর একদিন—
চোখের জলে বিদায় চায় মেয়েটি,
পেরিয়ে যায় নিজের ভিটের দরজা।
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য
দেশ-বিদেশের শহর
ছেলেটিকে দেয় ঠিকানা।
সময় ফেরে,
কালের স্রোতে—
বাড়িই হয়ে যায়
“বেড়াতে আসার” ঠিকানা,
নিজের ঘরটাও ধীরে ধীরে
হয়ে যায় স্মৃতির জানালা।
জীবনের শেষে—
যদি কোনো একদিন
আমায় কেউ জিজ্ঞেস করে—
“কোথায় তোমার ঘর?”
আমি এক মুঠো মাটি তুলে বলব—
“এখানেই আমার জন্ম,
এখানেই আমার মূল শিকড়,
আর এখানেই একদিন
আমার সব পথের হবে শেষ।”
সাক্ষী শুধু তুমি—
এই তো আমার দেশ,
এই তো আমার পরিচয়,
এই তো আমার ভিটে…
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)