![]()
আমার প্রথম প্রেম — “স্কুল, মিতা ও শূন্য”
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
হে আমার অতীত হাসি, অতীত প্রেম,
অতীত শিক্ষার নীড়,
তুমি কেমন আছো জানতে চাই।
তুমিও কি কখনও জানতে চাও—
আমি কেমন আছি?
হৃদয়ে কেন এমন ভিড়?
আমি বেঁচে আছি, আমি সুস্থ আছি—
তুমিও ভালো আছো— এমনটাই ভরসা করি।
ছ’টি বছরের শিকড়ে
রোদ-বৃষ্টির স্মৃতিরা করেছিল আনাগোনা।
আমার বয়ঃসন্ধিকাল তখন—
রঙিন ফুলে ভরে উঠতো প্রতিদিন।
সেই ফুলে নামত এক প্রজাপতি—
কথায় মন মাতাতো, চোখে স্বপ্ন সাজাতো,
আর ছুটির ঘণ্টায় উড়ে যেত
নিজের চেনা নীড়ে ফিরে।
শুধু স্কুল দাঁড়িয়ে থাকতো
সব কিছুর সাক্ষী হয়ে ধীরে।
আমি ছিলাম বড়ো বোকা—
প্রেমের ভাষা বুঝিনি।
তাই বলা হয়নি—
“আমি তোকে ভালোবাসি।”
আর বলা হয়নি—
“আমি আমার স্কুলকে ভালোবাসি।”
সময়ের পরে
যখন জীবনের সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়েছে,
তখন বুঝেছি—
আমি প্রথম প্রেমকে অবজ্ঞা করেছিলাম,
আর অবজ্ঞা করেছিলাম
আমার স্কুল-নামক সেই পবিত্র পূণ্যক্ষেত্রকে।
তোমরা নিশ্চয়ই জানতে চাইছো, নাম কি ওর—
ওর নাম— মিতা।
আমার স্কুল,
পুরো বেঞ্চভর্তি হাসি,
খাতার ভাঁজে লুকোনো টুকটাক স্নেহ,
সকালবেলার প্রার্থনার সারিতে
একফোঁটা নীরব লজ্জা।
সে-ই ছিল আমার প্রেমের প্রথম পাঠ,
আর আমার ধর্মগ্রন্থ— গীতা।
লিচু গাছের ছায়ায় আজও
রোদ ভেঙে ভেঙে নেমে আসে।
আমগাছের ডালের নিচে
বাতাস আজও
কাগজের পাতার মতো কেঁপে ওঠে।
সেখানে দাঁড়ালেই মনে পড়ে—
তার চোখ দুটি অসামান্য—
আর আমি খাতার কোণা মচকে
এখনও তাকিয়ে আছি।
সময়ের পরে
বই লিখেছি “প্রেমের ভোরাই”—
আবার প্রেমের ভোরাইয়ে খুঁজেছি শূন্যস্থান।
অবশেষে পেয়েছি—
“শূন্যর শূন্যস্থান”— নিখাদ শান্তি।
আজও ফিরে যাই—
ভাঙা ইটের দেওয়াল ছুঁই,
ধুলোবালির বেঞ্চের গায়ে হাত রাখি।
সেখানেই পাই—
স্কুলকে,
মিতাকে,
আর শরৎ স্যারকে—
এক নীরব আলোয়।
আমার বইয়ের উৎসর্গ পাতায়
সহপাঠীরা আছে।
অনেক কবিতার অন্তরালে
আমার ভোরাই আছে।
খুঁজতে বলবো না—
এটা আমার ব্যক্তিগত ধূপদানি—
যেখানে প্রেম জ্বলে,
কিন্তু বলে না।
শুধু জানি—
যখন শূন্যের দিকে চেয়ে থাকি,
চোখের ভেতর ধীরে ধীরে জমে জল—
তখন চোখের জল মুছে দেয় শূন্য সময়কাল—
আমার স্কুল,
আমার মিতারা,
আর আমার প্রথম প্রেম।
গভীর আন্তরিকতায় শূন্যে দিলাম–
“এক মুঠো ভালোবাসা”।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)