![]()
ঈশ্বরচন্দ্র নামটা
Ishwarchandra Namta
কলমে— সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন— প্রতিধ্বনির পরে
নাম যদি হয় বিদ্যাসাগর,
ভিতরটাও দেখো ভাই—
জ্ঞানটা তার কতটুকু—
সেটার আগে যাচাই চাই!
বিদ্যা তার সাগর নয়—
বিদ্যা দিয়ে করে বাজার,
দু’পাতা পড়ে দশখানা কথা—
নিজেকে রাজা ভাবে এলাকার!
সবজান্তা বিদ্যাসাগরেরা,
জ্ঞান দেয় অবিরাম,
দু’চার কথা শিখেই—
আজ ওদের বিশ্বজোড়া নাম!
জ্ঞানানন্দ— জ্ঞান-আনন্দ,
জ্ঞানীর বেশে বেশ,
দু’টো তথ্য মুখস্থ করেই—
জাহির করে জ্ঞানীর রেশ!
বুদ্ধু সাগরে বুদ্ধি ঢালে—
বালতি ভরে শূন্য,
নিজের মাথায় তালা মেরে
অন্যের মাথায় ধন্য!
বাক্যবীরের— বাক্যে ক্ষীর,
কাজের বেলায় বড়ই ক্ষীণ,
মুখের তোড়ে মহাবীর,
লিখতে গেলেই মুখ মলিন!
বিদ্যাসাগরের— বুদ্ধি কই?
বুদ্ধি গেছে লাটে,
নিজের ঘরে অন্ধকার,
তবুও কণ্ঠে মশাল জ্বালে!
জ্ঞানগুরু আজ কোথায়?
গুরুঘণ্টা সজোরে বাজে,
নিজের ভুলটা চোখে পড়ে না,
পরের খুঁত দূরবীনে খুঁজে।
বাক্যবাগীশের বাণী শুনে
দেয়াল পর্যন্ত হাসে,
কথার ঘোড়া ছুটছে খুব—
যুক্তি পড়ে সবুজ ঘাসে।
জ্ঞানানন্দে ভাসে জনতা,
তথ্য থাকে খানা-ডোবায়,
অর্ধেক জেনে পুরো কথা—
হিরো সেজে বারবার আওড়ায়!
নীতিসাগর— নীতি বেচে,
বিবেকসাগর দেয় ঘর ভাড়া,
মুখে তার আদর্শ ঝরে—
কাজ করে কেবল ভেড়া!
সময় সাগর ঢেউ তোলে,
জ্ঞান সাগরের ফেনায়,
নিজের ঘরের খাবার নেই—
বিদ্যাসাগর ভর্তি হয় সেনায়!
বুদ্ধি আজ— নীতিসাগরে,
কাজে শুধু পচা নালা,
মুখে তার মহাভারত,
হাতে ধরা ফাঁকা থালা!
শেষে বলে— “আমিই ঠিক,
আমিই জ্ঞানের কাণ্ড!”
আয়না দিলে দেখা যায়—
বিদ্যাসাগরেরা আসল ভণ্ড!
বিদ্যাসাগর গিরি—
করবে না একদম,
জ্ঞান দিতে—
সাগরের মতো লাগে দম।
নাম ভাঙো, দাম দেখো—
ফাঁকটা যাবে ধরা,
বড় বড় নামের নিচে
ছোট করে লেখা ঈশ্বরচন্দ্র নামটা।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)