![]()
চোখের জল
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
হৃদয়ের গভীরতম আর্তিতে আবর্তিত
চোখের জল—
কখনো দুঃখ, কখনো আনন্দ,
কখনো স্মৃতি, কখনো ক্ষত,
কখনো আবার শান্ত হবার নরম উপায়—
তবুও সবসময় টলমল, ছলছল।
স্মৃতি হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ে—
শৈশবের মাঠ, হারানো দুপুর,
মায়ের আঁচলের গন্ধ—
সব মিলিয়ে চোখ ভারী হয়ে আসে নিঃশব্দে।
নিঃশব্দ রাতের কোণে
চোখের জল টুপটাপ পড়ে।
অকথিত ব্যথাগুলো
বিন্দু-বিন্দু জলে মাথা তোলে।
অন্যের কষ্টেও মন ভেঙে পড়ে—
এক ফোঁটা জল যেন মানবতার স্বাক্ষর;
ধীরে ধীরে সে বলে,
“আমি-ও ব্যথা বুঝি।”
আবার ক্লান্তির শেষে
যখন সব চাপ নেমে যায়,
চোখের জলই তখন স্নিগ্ধতম মুক্তি—
ডুবে থাকা মনকে ভাসিয়ে তোলে
আলতো এক স্পর্শে।
মন তো কাগজের নৌকা—
হাওয়া লাগলেই ডুবে যায়,
জলে ভিজে নীরবে ফোঁপায়।
চোখের কোণে জমে থাকা ক্ষুদ্র জল—
যেন পৃথিবীর সমস্ত অনুভূতির
গোপন দলিল লিখে কাঁপায়।
কখনো নামে প্রিয়জন হারানোর ব্যথায়,
কোমল রাত্রির অন্ধকারে বালিশ ভিজিয়ে দেয়;
কখনো আবার ফিরে আসা হাসির আলোয়
অবাক খুশির ঝর্ণা হয়ে ঝরঝর করে।
চোখের জল—সব ভাষার ভাষা।
ভালোবাসা যখন হৃদয় ছুঁয়ে যায়,
চোখের কোণে আলো ফেটে ওঠে নিঃশব্দ কাঁপনে।
রাগে, ব্যথায়, অন্যায়ের আগুনে
এই জলই নীরব অভিমানে বুঁদ হয়ে ওঠে।
শেষে শুধু থাকে—
ভালোবাসার সেই চোখের জল।
হৃদয়কে দিলাম দানে—
গভীর বিশ্বাসে,
ধুকপুক করে বলেই চলেছে—
চোখের জলে লুকানো গভীর মানে।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)