![]()
বাবার ভুল নেই
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
বাবা শব্দের ব্যাখ্যা বড়ই জটিল—
লেখাটা “বাবা”, বলাটা আরও কঠিন।
বাবা ডাক শোনার জন্যই বাবা হয়ে যায়
অতি আবেগপ্রবণ, ভাবুক, উদাসীন।
বাবা, “বাবা” শোনার জন্য
সবকিছু ফেলে হাসিমুখে কোলে তুলেছিলে—
ছোট্ট ছিলাম সেদিন।
বাবাকে মানুষ করার তরে
নানা সংগ্রাম, নানা ত্যাগ
বাবা করে প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন।
সবার চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসে
ধীরে ধীরে বাবা হয়ে যায়
স্বয়ংক্রিয় এটিএম মেশিন।
“এটা দাও, ওটা চাই—
দিতেই হবে!”
কোথা থেকে আসে?
তার খোঁজ রাখে না কেউই।
চাপে, অবসাদে, ক্লান্ত শরীরে
হয়তো দুঃখে একদিন হতাশায়
বাবা বলে ফেললো— “আর নেই… পারছি না।”
এই শব্দগুলি উচ্চারিত হতেই
শুনতে হবে—
“এ বাবা আর সে বাবা নেই!”
এবার ভেবে নাও—
বাবার সম্মান লুঠ হতে,
অবহেলা পেতে
সময় আর বেশি নেই।
বাবাকে বাবা করার জন্য
কঠোর হলেন বাবা—
এছাড়া অন্য কোনো গতি নেই।
সেদিনের ছোট্ট বাবা আজ বাবা;
নতুনের টান, সময়ের ফেরে
পুরোনো বাবায় আর টান নেই।
ভালোবাসা, দায়িত্ব, কর্তব্য আর মায়ায় বাঁধন—
এটাই নিয়ম বাবা; অন্য কিছুই নেই।
বাবার যৌবনের সময় চলে গেল,
এখন বাবার যাওয়ার সময়—
শরীরটা ভালো নেই।
উপরে কঠিন দুটি আস্তরণের পরে
সুষম নমনীয় সাঁস—
এর বিশুদ্ধ জলের বিকল্প নেই।
আমার বাবাকে কোলে নিয়ে মানুষ করে
আমার বৃদ্ধ বাবা—
কিছু বলার জো নেই।
বাবা, তুমি নারকেল গাছ?
অথবা শুধুই নারকেল?
না— দুটোই! আমার জানা নেই।
নানা কাজে, নানা ভাবে
রঙিন নানা দিনের রঙ
পেয়েছি বাবার—
হতভাগা সেই যার বাবা নেই।
পেছনে আমার বাবা,
সামনেও আমার বাবা—
মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাবা
নিরাপদে আজ নেই।
বাবার সব আছে,
আবার কিছু নেই।
কিছু কি চায় বাবা?
উত্তর— হ্যাঁ, না, উদাসীন…
হয়তো নেই।
তিন বাবার—
অন্য বাবার কাছে
অঙ্গীকার বা প্রার্থনা করার
অধিকারও নেই।
তুমি বাবার বাবা,
সবার বাবা—
বাবাকে ভালো রাখবে?
তোমার বাবার সাধ্য নেই।
বাবা দৃশ্যমান কর্মী—
কর্ম করে ভুল-ত্রুটি হবেই।
তুমি বাবা— নশ্বর যোগী,
কোনো করার উপায় নেই।
গোপনে— তিনে মিলে জগৎ চালাও।
ময়দানে মরে তিন,
পূজা নেবে—
লজ্জা, শরম নেই।
যদি জগৎ সৃষ্টি তোমার দ্বারা—
সৃষ্টি হয়ে কষ্ট পাই,
গালি তুমি খাবেই— উপায় নেই।
নিয়ন্ত্রণ তোমার হাতে—
বাবার ভুল কেন?
দোষ তোমার—
পরিচালনার ক্ষমতা নেই।
সবার বাবা, অথচ
বাবার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ—
আসলে তোমার
বাবা হওয়ার যোগ্যতাই নেই।
আমিও বাবা, তুমিও বাবা—
ভুল বলে থাকলে বলেছি।
ক্ষমা করার দরকার নেই।
ধরাধামে আনার জন্য অভিনন্দন।
প্রণাম।
পিতৃ দিবসে বাবাই পরম পিতা—
বুঝতে বাকি নেই।
মান-অভিমান বাদ—
পরম পিতাকে কড়জোড়ে নমস্কার।
মাথায় উপর রাখলাম—
হৃদয়ে জায়গা নেই।
যত মান-অভিমান, বায়না-রাগ
বাবাকে ঘিরে—
সদাই বাবার অন্তরে
বাবার ঠাঁই—
কোনো কথা নেই।
বাবার বাবা আমিই,
সন্তানের বাবা আমিই—
বাবার সংখ্যা তিন।
অঙ্ক ভুল নেই।
পরম পিতার নম্বর শূন্য,
বাবার তিন—
শূন্য এবং তিন
কখনও ভুলতে নেই।
পৃথিবীর সমস্ত বাবা সুস্থ থাকুন,
সুস্থ রাখুন।
চিন্তা করবেন না—
কোনো বাবার ভুল নেই।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)