![]()
১.ভগ্নাংশ-তিনের এক
খোকার হাতের আপেল, নাকি কমলা
নাকি কুসুম-কুসুম কোন এক গোলাপ দলা
নাকি লালাভ এক মিমি-চকোলেট…
কখনও শরতের শিশির কেবলই দুর্বাপত্রে;
পাপও নেই, পূণ্যও নেই ছত্রে-ছত্রে;
কেবলই নিরন্তর এক শূন্য পকেট…
এমনই গোলাপ এক; কাঁটাহীন কীটহীন দেখ না-
কখনও পিকাসোর জীবন্ত এক উপ-ম্যাডোনা;
বিসম্য়কর এক বিধ্বংসী সৌন্দর্যে;
কেবলই দূরের অজানার উদ্দেশ্যে-
যেন এক গতিময় দূরন্ত রকেট…
২.ভগ্নাংশ-তিনের দুই
কেবলই নীল পাত্রে লাল সিরাজী যেন-
স্বপ্নে চুরচুর মোমের ঝাড়লন্ঠন তলে;
নিষিদ্ধ গলির এক অন্ধকার মুখ হেন-
কেবলই টানে পতঙ্গের মতো পলে-পলে;
নাদেখা, নাছোঁয়া এক স্বর্গীয় কিছু এমন-
যেনবা হঠাৎ কোথা থেকে এলেন…
সুঢৌল নিতম্বের মোহনীয় বলিষ্ঠতায়,
উরুসন্ধির বিস্ময়কর এক নিবিড়তায়,
পীনোন্নত বুকের সুগন্ধি হাওয়ায় হাওয়ায়-
কখনও যেনবা কবিতার বনলতা সেন…
আবার কখনোবা গুরুদেবের উর্বশী;
কেবলই পারিজাত পারিজাত-হাসি-
যেন বা গোলাপ-গোলাপ এক শশী;
কারো নয়, সকলের; শুধু হাওয়াই লেনদেন…
৩.ভগ্নাংশ-তিনের তিন
কবিতার সে ফাল্গুন শেষ,
তাই কামনা-বহ্নি রেশ
উড়ন্ত মেঘের মতো আর নাহি চলে…
বুকও নাই, সুখও নাই-
আশার বসতি তাই
ডুবে গেছে জমুনার কালো অতলে…
নাই আর ইতিহাস তার,
নাই কীর্তি-গাঁথা-ভার,
নাই আদিম অধিকার-
আজ কীর্তি ও সত্তায়, কলা ও কৌশলে…
দেশভাগের এক উদ্বাস্তু যেন হায়!
আজ কেবলই ঠেলা খায়! ঠেলা খায়!
স্বার্থপর সে মাটির অস্থিরতায়
আজব এ সংসারের একুলে ওকুলে…
কামনার ফার্নেসে এক বা একুশ বছর ধরে
নীল ভালবাসার এ আজব রহস্য-সংসারে
ধিকি-ধিকি জ্ব’লে নিভে যাবে গঙ্গাজলে;
সব যন্ত্রণার উর্ধে যেন নিঃশেষ এক নিস্ফলে…
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)