![]()
শরবত বনাম চা
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
আজকাল প্রচলিত আপ্যায়নের নিয়ম—
হাফ কাপের একটু বেশি চা,
দুটো বিস্কুট— ব্যস, টিফিন সারা—
কিন্তু এক গ্লাস শরবত দিলে—
তারপরে আবার কিছু না কিছু চাই—
পাতে একটু ভাজা, একটু খই,
নুন-লঙ্কা চাটনি— চাই মণ্ডা-মিঠাই।
এত টাকা নেই রে ভাই—
শরবত দিয়ে নিজের ঝক্কি কেন বাড়াই?
চা দিলেই সব মিটে যায়—
খরচও কমে, ঝামেলাও নেই।
কিন্তু ঠাকুমা বলেন—
চা নাকি জিহ্বায় আগুন, রক্তে আনে দহন,
পাঁচ মিনিটের শান্তির পরে
শরীরে গজায় নতুন রোগের কারণ।
আর শরবত?
মাটির কলসির ঠাণ্ডা জলে
লেবুর স্নিগ্ধ মেশানো সুরভি—
রক্তের রাস্তায় বিছিয়ে দেয়
সবুজ ঘাসের কোমল আরামদায়ক পথখানি।
পালো শরবত পেটে নামলেই—
উধাও হয়ে যায় ক্লান্তি আসে শান্তি,
গরমে গা জ্বালা হয় জব্দ।
বুকে ঢেউ তোলে ঠাণ্ডা বাতাসের
নরম স্নিগ্ধ সোঁ, সোঁ, সরল শব্দ।
এক গ্লাস শরবতে—
শরীর হাসে, মন খেলে, চোখে ঝরে প্রশান্তির সুর।
দেহে জ্বলে জীবনের দীপ্তি—
মুছে যায় ক্লান্তির ধুলো ধ্বংসস্তূপের নূর।
আর চা?
জাগায় শুধু কথা—
ভিতরে ভিতরে শরীর হয় ক্ষয়।
চিনি-দুধ-চা— সব মিলিয়ে
অম্বল, গ্যাস, পেট জ্বালা, মাথা ঘোরা মাথা ব্যথা—
শেষে ওষুধই হয় সাথী— সুখ নয়, থাকে শুধু সংশয়।
হাফ কাপের একটু বাড়তি চা—চায় কেউ কেউ,
ভাবেনা- হৃদপিণ্ড ভয়ে তোলে ধুকধুক ঢেউ।
আর শরবত?
ঘামের ভিতর থেকে টেনে আনে প্রশান্তি—
জীবনে বইয়ে দেয় নীল বাতাসের নরম শান্তি।
তর্ক যতই হোক—
একটু লেবু, একটু গুড়, ঠাণ্ডা শান্ত জল—
এই-ই তো ঘরোয়া ভালোবাসার সহজ চল।
চা শুধু মুখের সুখ—
শরীরে ফেলে অবসাদের কালো ছায়া।
শরবত শরীরের ঢাল—
রোজকার সকাল-বিকেলে সুস্থতার কোমল মায়া।
শেষ সত্যিটা সোজা—
আপ্যায়ন চায়ের কাপেও হয়,
কিন্তু শরবত—
জীবনকে রাখে বাঁচিয়ে, মনকে রাখে সতেজ।
আত্মীয়-স্বজন এলে—
এক গ্লাস শরবত বাড়িয়ে দাও হাসিমুখে—
এটাই আসল প্রথা।
স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস নয়—
এই শপথ থাকুক বুকে। আর হবেনা কোন কথা।।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)