![]()
সে ডাকে আমারে
কলমে— সুব্রত পণ্ডিত
(১)
আমার কথা শুনে
সবাই ভাবে আমি পাগল,
পাগল একা চলে,
জোট বেঁধে চলে ভেড়ার দল।
আমি দেখি—
ক্ষুধার্ত চোখ,
সভ্যতার মুখোশ,
পাশের কান্না
শোনার সময় কারও নেই—
তবুও আফসোস।
সে ডাকে আমারে—
(২)
সবাই ছুটছে—
ক্ষমতার পেছনে,
অর্থের পেছনে,
নিজের ছায়াকেও
পেছনে ফেলে যাওয়ার এক রেস।
আমি থামি—
একটি পড়ে থাকা মানুষের পাশে,
একটি অনাহারী মুখের কাছে,
একটি অবহেলিত সত্যের সামনে।
তখন ভিড় হাসে—
“ও পাগল, ও পাগল,
তোর মাথায় গন্ডগোল!”
আমি হাসি,
সে তখনও ডাকে আমারে।
শুকনো নদীর বুকে
জলের স্মৃতি,
ডাকে হারানো ঢেউকে।
নিভে যাওয়া প্রদীপ খোঁজে
শেষ আলোর তেলটুকুকে—
সেও ডাকে আমাকে…
(৩)
রাজপথ ভরে ওঠে
হাজার পায়ের শব্দে,
অথচ একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
নিরুপায় বৃক্ষের মতো
চৌরাস্তার মোড়ে।
আর মিথ্যে—
গলায় পরে নেয়
রঙিন ফুলের মালা।
কেউ দেখে—
জানালা বন্ধ করে দেয়,
কেউ মুখ দেখে—
চোখ ফিরিয়ে নেয়,
কেউ রক্তাক্ত বিবেককে
সাদা কাপড়ে ঢেকে বলে—
“সব ঠিক আছে।”
আর আমি—
ভিড়ের বিপরীতে
একটি শুকনো পাতার মতো উড়ি,
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা
একটি একলা গাছের মতো কাঁপি;
তবু হাসতেই থাকি।
(৪)
সবাই বলে—
“পাগল!
একা একা কোথায় চলেছিস?”
আমি শুধু শুনি—
অজানা কোনো দূর থেকে
সে আবার ডাকছে আমারে।
সে ডাক কখনও
মায়ের কান্নার মতো,
কখনও অসহায় চোখের মতো,
কখনও বৃদ্ধের কাঁপা হাত,
কখনও নিঃশব্দে মরে যাওয়া
একটি স্বপ্নের মতো।
একদিন—
আমার পায়ের চিহ্নও
মুছে দেবে সময়ের ধুলো।
ভেড়ার দল তখনও চলবে—
একই পথে,
একই সুরে,
একই অন্ধ অনুসরণে।
হঠাৎ—
কোনো এক গভীর রাতে,
নিস্তব্ধতার বুক চিরে
কেউ কড়া নাড়বে—
“শোনো… শোনো…”
সে ডাকবে তোমারে।”
হয়তো তখন
জানালাগুলো খুলবে,
চোখগুলো
ধীরে ধীরে জেগে উঠবে।
প্রতিধ্বনির পরে—
ভেসে আসবে—
“পাগল আর পাগল…”
সে ডাকে তোমারে…
সে ডাকে আমারে…
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)