চেয়ে দেখো মুখপানে (Cheye Dekho Mukhopane)

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

চেয়ে দেখো মুখপানে
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (প্রথম খণ্ড)

আজ মন ভরে দেখি তাই,
আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা তো এই।
কিছু যদি নাও পাই,
ফ্যালফ্যাল করে তবুও তোমার পানে চেয়ে রই।

তোমাদের খাওয়া দেখে,
আশায় আমি শুধু লেজটি নেড়ে নেড়ে বেড়াই।
কত কিছু খাচ্ছো, দাচ্ছো, গল্প করছো—
ভাবি আমি, যদি একটু আধটু পাই।

তোমরা করছো শুধু খাই খাই,
আমার পেটের জ্বালা পূরণ হচ্ছে না, কারে কই!
তোমরা বুঝেও কেন বুঝনি,
খিদের জ্বালায় আমিও মাঝেমাঝে করি কাঁই কাঁই।

হয়তো ভাগ্যবান,
তাই সবার খাওয়ার শেষে
এঁটো, কাঁটা-বাঁটা আমি পাই।
তোমাদের উচ্ছিষ্টই আমার প্রসাদ—
যখনই পাই, ভক্তি ভরে আমি খাই।

বেইমান নয়কো আমি, সাহসী আমি,
দিতে জানি প্রতিদান— মনে রেখো ভাই।
ভাবছো সমাজে অযোগ্য, অচ্ছূত আমি—
আমি শুধু পাহারাদার, পাহারাই দেই।

না ভাই, ধরাতে বিপদ এলে
আমিই আগে বুঝে যাই,
সতর্ক বারে বারে করাই।
বুঝো না কেন! আমি করি কেন ঘেউ ঘেউ?
ভাবছো, আমার কোনো কাজ নেই!

মহাবিপদ, মহা অবক্ষয়, মহাপ্রলয়
আসার সংকেত দেই, আর ঘুমিয়ো না সবাই।
জেগে ওঠো, জেগে ওঠো বলি—
সমবেত হও, মোকাবেলার প্রস্তুতি করো তাই।

বিরক্তি ভরে তখন আমায় ‘দূর হ’ বলো—
হায়! হতাশায়, লজ্জায় আমি মরে যাই।
দেখো তো! ঠান্ডায়, গরমে
আমার ছানাপানাগুলো কেঁদে মরে—
তোমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।

মনিবের ভালোবাসা দেখে আমি তখন শুধু কাঁদি,
কি আর করি! আবারও লজ্জা পাই।
নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে,
দুঃখ হয়—
রাগের বসে কখনো সখনো কামড়েও দেই।

আমিও তোমাদের মতো
আবেগ, বিবেক, স্বভাব নিয়ে এসেছি—
একটু বাঁচতে চাই।
আমারও কিছু বলার আছে,
কিছু করার আছে এই সংসারে—
সংসারের কর্ম যে একই।

দু’দিনের এই খেলা ঘরে
কিছু স্মৃতি তৈরি করে,
এই ধরাধামে রেখে যেতে চাই।

ভালোবাসা কী জিনিস, খোঁজে নাও বুদ্ধিমান—
নইলে যত দোষ তোমার মাথাতেই।
তোমাদের প্রভুর আসনে বসিয়েছি,
দিনরাত মনে-প্রাণে–
শুধু ভালোবেসে সেবা করে যাই।

বিট্টু, বিলু, লালু, ভুলু, কালু, বাঘা—
উজাড় করে দেবে ভালোবাসা,
সময়ে একটু খাবার যদি পাই।

বিধাতার ভালোবাসায় তৈরি আমি—
এতে তোমাদের কোনো দোষ-ত্রুটি নেই।
ঋণ শোধের সুযোগ পেয়েছি,
তাইতো ঋণ শোধে অবিরাম,
ভয় করে— শোধের আগে যদি মরে যাই।

গালি দিও না ‘কুকুর’ বলে, কাউকে ভেবোনা,
‘কুকুর’ শব্দটির কপিরাইট চাই।
যদি পাই, ধন্য হয়ে যাই—
ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে–
কুকুরের মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য এই-এই।

কুকুর আমি— নামটিতে আমার গর্ব হয়,
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির আগে হয়েছিল স্বর্গে আমার ঠাঁই।
আদরে ‘অভাগা’ বললে যখন আমায়,
সত্যি সত্যিই আমি অভাগা হয়েই থাকতে চাই।

ঘুরে বেড়াই, কিছু নোংরা খাবার খেয়ে
সমাজ পরিস্কার করি—
‘সেবাই ধর্ম’— জয়গান গাই।
জীবপ্রেমে মগ্ন আমি,
মেনে চলি তোমার বাণী—
আমার দেখার-ভাবার কিছুই আর নাই।

তুমি মনিব— দেখো, নাই দেখো,
তোমার মনিবের কাছে আমি প্রার্থনা জানিয়ে যাই।
এখনো কিছুই বুঝেনি, এখনো অজ্ঞ—
বুদ্ধি ওদের দাও;
ওরা জানে না নিজেরাই।

ওদের ক্ষমা করো, বুঝিয়ে দাও—
ভালোবাসা ও ক্ষমার থেকে
বড় কোনো ধর্ম নেই।
দয়া-মায়া দাও,
অপরের ভাষা বোঝার ক্ষমতাটুকুও দাও—
“আমার কিছু নয়, ভবে তোমার সবই।”

কখনোই বিশ্বাসঘাতক হবো না—
আমার প্রতি বিশ্বাস যদি রাখো,
কুকুর হয়ে আসবই।
ঘেউ ঘেউ আমার স্বভাব,
যতই তাড়িয়ে দাও,
বারেবারে আসবো, তাকাবো আর ডাকবই।

একটু শান্তিতে বাঁচতে চাইবো,
সবাই মিলেমিশে হই হুল্লোড়ে কাটাবো—
জীবনে এটাই চাই।
একটু চেয়ে দেখো মুখপানে আমার,
অনেক অজানা কথা পেয়ে যাবে সব্বাই।।

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 90Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।