কথা রাখি কেমনে (Kotha Rakhi Kemone)

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

কথা রাখি কেমনে
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (প্রথম খণ্ড)

বর্ষবরণ, নবীন বরণ—
উৎসবটি মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে আজ,
অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাবছো, সত্যের জয় হবে,
রামরাজত্ব গড়ে উঠবে,
জন্মদিন মুখরিত— জিন্দাবাদ।

আন্তরিক অভিনন্দন, অভিবাদন—
স্বাগতম জানালো কত গুণী, গণ্যমান্য।
আমি খুব আনন্দিত, খুব গর্বিত—
এত শুভেচ্ছা,
এত সুন্দর ভালোবাসা আমার জন্য।

আমাকে পাওয়ার তরে,
পাওয়ার পরে—
কি উন্মাদনা সবার মধ্যে,
বলে বোঝাতে পারব না।
আমি তোমাদের ঘরের সন্তান হলাম,
এক পরিবারে থাকব—
আর দূরে যেতে হবে না।

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই
যারা আমার জন্য
সারাদিন-রাত ধরে অবিরাম গলা ফাটালে।
বহু আশা নিয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে,
স্ব-সম্মানে তোমরা আমায়
সিংহাসনে বসালে।

আমার উপর আজ
তোমাদের অগাধ বিশ্বাসে
করছো শত-সহস্র আবদার।
এক নিমিষেই আমি যেন সব দিতে পারব—
ভাবছো আমি দানবীর কর্ণ, মহারাজ!

ভাবছো, সমস্ত সমস্যার সমাধানে
পরিকল্পনামাফিক কাজ হবে—
লাগবে বেশ মজাদার।
রূপ-রস-গন্ধ-বর্ণ-বৈভবে
দিন কাটবে তোমার,
হবে তুমি মহারাজ বা জমিদার।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন—
প্রত্যাশার নানা ক্ষেত্র,
সামাজিক উন্নয়ন—
সব জনগণই চায়।
প্রেমিক-প্রেমিকারা চায় প্রেম,
জীবিকার তরে শুনি
বেকারের হায়-হায়।

জনগণের ট্যাক্সের টাকাগুলো
উন্নয়নের কাজে যায়—
তবু বলছো শুধু
হয় নয় ছয়।
হয়তো হয়— দোষ কি?
নির্বাচনে জিতেছে সংবিধান মেনে ওরা,
কিছুজন করে খায়।

ভালো নম্বর পাওয়া মেধাগুলো
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার পেশাতে যাচ্ছে
উঠতে-পড়তে।
কিছু তো আসা দরকার
দেশের সংস্কৃতি ও বিচারধারায়—
স্বদেশভূমে ভালো সমাজ গড়তে।

ক্ষমতা খুঁজে বেড়াও হেথা-হোথা—
আজকাল দেশের সব ক্ষমতা
লুকিয়ে রাজনীতিতে।
দয়ামায়া, প্রেম, সেবাপ্রাণতা,
বিশ্বাস, গুরুনিষ্ঠা, ভক্তি—
কোথায়?
আছো শুধু হুজুগের অনুষ্ঠানে মেতে।

বেনামী ঐশ্বর্য আর ললনার লালসায়
ছুটে চলেছে অহরহ
স্বনামধন্য, ডপবাজ, চৌকস নেতারা।
নামিদামি প্রতিষ্ঠান— তবে কি!
কৃতঘ্ন, ধান্দাবাজ, ধাপ্পাবাজ,
অসহনশীল তৈরির আখড়া?

নতুন বছরে
সবার সব স্বপ্ন, সব প্রত্যাশা পূরণের
আজ আমার দায়—
বলছে কারা?
পুঁথিগত বিদ্যা থাকলে হবে না,
সময়োপযোগী দক্ষতার
ভীষণ প্রয়োজন—
বুঝেছো কি তোমরা?

দু’চোখে ঘুম নেই,
তবু কেন ঘুমাচ্ছো?
এবার শিক্ষিতরাও জাগো—
দূর করো ধান্দাবাজদের।
তোমরা এলে আখেরে লাভ হবে
তোমার-আমার-সবার,
রচিত হবে ইতিহাস— আমাদের।

কারও চিন্তায়, কারও প্রার্থনায়,
কারও হৃদয় জুড়ে
বাস করুক তব কর্ম।
চন্দন কাঠ হও,
বটবৃক্ষ হও,
নিম বা কুলেখাড়া—
সবাই হও অপ্রতিরোধ্য,
প্রতিরোধী বর্ম।

রক্ষা করো আত্মসম্মান,
রূপান্তরিত করো আন্দোলনে।
আত্মজ্ঞানে, আত্মসংযমে
নিজেকে গড়ে তোলো।
নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে
নিজেই নিজের
জয়ের সম্ভাবনাময় রাস্তা ধরো।

নব বছরে, নব দিনে
স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য স্থির করো,
লক্ষ্যে অবিচল থাকার
শপথ গ্রহণ করো।
নইলে—
অজস্র প্রত্যাশার চাপ
আমার উপর অযথা।
বিরক্ত করবে না— খবরদার আর।

দিবে না কিছু, শুধু নেবে—
এমন ভাব এলে,
মানে-মানে কেটে পড়ো,
রাস্তা দেখো যে যার।

মহতি উদ্যোগ, উৎসবকে
দেখানদারি-ফ্যাশনদারি
ফ্যাশন শো করতেই থাকো যদি এক্ষণে—
সত্যি বলতে বাধ্য হলাম এখন:
কোনো দিনই কথা দিইনি,
কথা না দিলে
কথা রাখি কেমনে?

যদি সত্যিই তোমরা ভালো চাও,
ভালো হতে পারো—
তোমার-আমার সম্পর্ক
উঠবে গড়ে জনমে-জনমে।
তোমার আশ্বাসে আমার বিশ্বাস তৈরি হবে,
কর্মে প্রতিফলন হবে প্রতিনিয়ত—
নইলে ভুলে গেলাম।

চেতনার জাগরণে,
সচেতনতার প্রচারে
মুখরিত হও দ্বারে-দ্বারে।
নবজাগরণে আমি ব্রতী হলাম।

তোমরা আনন্দের উৎস হলে—
তবেই আমি, কারণে-অকারণে,
আলোর উৎসব হব— কথা দিলাম।

বছরের একলা দিনে
স্বপ্নের ডালি নিয়ে
ফেরিওয়ালা হয়ে
বারে-বারে তোমাদের কাছে
না হয় এলাম।।

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 90Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।