![]()
আশা করি বুঝে গেছো
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — শূন্যর শূন্যস্থান (প্রথম খণ্ড)
স্বপ্নের ঘোরে সহসা সাহস করে একবার প্রিয় ষাটের জীবনকে জিজ্ঞেস করলাম —
তুমি কেমন আছো?
প্রায় একশো ট্রিলিয়ন কোষে, প্রায় ছেচল্লিশ মাইল জুড়ে,
স্নায়ুকে উত্তেজনায় উত্তেজিত করছো।
দৈহিক, মানসিক, শারীরবৃত্তীয় কাজে নানা বিধ সমন্বয়ের সাধনগুলি —
স্নায়ু এ বয়সে ঠিকঠাক করবে, ভাবছো?
দু’শ ছয়খানা হাড় কলকলকব্জায় যুক্ত,
তাই এই একটু-আধটু জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হচ্ছে।
মাথা আছে তাই যন্ত্রণাও আছে।
তবে কানে ঠিকঠাক শুনি,
তবু আজকাল আড়কালা ইচ্ছেতেই হচ্ছি।
চশমার দ্বারা চোখের চালসা কাটিয়েও নিস্তার নেই —
ক্রমাগত কাছের-দূরের পাওয়ার পরিবর্তন করেই যাচ্ছি।
কয়েকটা দাঁত পড়ে গেছে ঠিকই,
তবু খাওয়াদাওয়ায় অসুবিধা নেই;
আধা চিবিয়ে দিব্যি গিলে খাচ্ছি।
আর পেটের কথা বলো না —
হালকা মসলাতেও ছটফটানি শুরু করে,
একটুতেই বিদ্রুপ করে মারছে।
হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, লিভার ও কিডনির কথা ছেড়ে দিন —
দেখছি, হঠাৎ বিকল হয়ে শরীরকে মুক্তি দিচ্ছে।
মাথার চুল পাতলা হয়েছে,
চামড়ায় ঝুল ধরেছে, ধৈর্য কমেছে,
কথা মনে থাকছে না।
বয়স হয়েছে — শরীর মনে হয় জানাচ্ছে।
আর কয়েকটা কথা বলে লজ্জা দিলাম না —
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবার প্রায় সমানসমান মনে হচ্ছে।
মনটাই যত নষ্টের গোড়া —
এর কোনো অস্তিত্বই নেই।
শুধু হরমোনিক গ্রন্থিগুলির ক্রিয়ায়
এটা-ওটা ভেবে সবাই মরছি।
পরিবর্তন ভালো থাকতে দিচ্ছে না,
তবু ভালোবাসি সংসার।
ভালো আছি।
দুনিয়ায় খারাপ বলে কিছু নেই — বুঝেছি।
বুঝেছো — ঠিক প্রশ্ন করেও বেঠিক উত্তর পাচ্ছি।
‘হ্যাঁ’ ‘না’ উচ্চারণেও দ্বিধা —
তাই তো বোবার ভান করে মাথা নাড়া শিখে গেছি।
ভালো তো আমারই সম্পদ,
আমি ভালো থাকতেই চাই।
তাই প্রতি ক্ষণে আমি ভালো আছি।
জীবনটাই তো ভালো —
পরিবেশ হোক যতো মন্দ-কালো।
আমারও জানতে ইচ্ছে করে —
তুমি নিশ্চয় ভালো আছো।
জীবন আছে তাই স্বপ্ন আছে,
স্বপ্নে আছি তাই জীবন আছে।
জীবন কে? জীবন কী? স্বপ্ন কী?
“আশা করি বুঝে গেছো।”
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)