![]()
বাবার পাঞ্জাবিটা আর রঙ চটেনা।
কাঁধের কাছে সেলাই খুলে গেছে,
তবুও সকালে মাঠে যাবার আগে
হাত দিয়ে চেপে নেন সেই ছেঁড়া জায়গাটা,
মনে করেন,
ফেলে দেয়ার সময় হয়নি এখনো।
গেঞ্জিটা, জালের মতো ছিদ্র,
তবুও লজ্জা ঢাকে বুকে
যেখানে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য
একটা ব্যাংক গড়ে উঠেছে কষ্টের রসদে।
জুতো নেই, চটের স্যান্ডেলেই
হেঁটে গেছেন হাট থেকে ধানক্ষেত,
তবু সন্তানের স্কুল ফিসে
দেরি হয়নি কোনো দিন।
বাবা কোনোদিন কবিতা লেখেননি,
কিন্তু তাঁর জীবনের প্রতিটি দিন
একেকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের পদ্য,
চুপচাপ, ধৈর্যের পাঁজরে বাঁধা।
তিনি স্বপ্ন দেখেন না নিজের জন্য,
শুধু একখণ্ড জমি,
একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই,
আর ছেলেমেয়ের জন্য দু’বেলা
দু’মুঠো খাবার জোটে কি না
এই চিন্তায় কাটে রাত।
তাঁর কাঁধে জমে আছে
ছয়টি ঋতুর ঘাম,
তার কণ্ঠে উঠে আসেনি
কোনো অভিযোগ,
শুধু একটিই উচ্চারণ
পড়ালেখাটা শেষ করিস, আমি আছি।
এই ‘আমি আছি’
হয়তো একটি ঘরের ছাদ,
হয়তো একটি হাতের ছায়া,
হয়তো পৃথিবীর সমস্ত অনাহার
ভুলে যাওয়ার আশ্বাস।
বাবারা নিজেদের জন্য কিছুই রাখেন না
তাদের জীবনের গায়ে থাকে
ছেঁড়া পাঞ্জাবির মতো স্বপ্ন,
তবু সন্তানের চোখে তারা হয়ে জ্বলে।
বাবা
এক অবিনাশী প্রহরী,
যার ছেঁড়া জামায় সেলাই করা থাকে
সন্তানের সমস্ত নিরাপত্তা।
![কবিকল্পলতা প্রকাশনী [Kobikolpolota Prokasoni]](https://prokasoni.kobikolpolota.in/wp-content/uploads/2020/08/pro-nw-m-logo.png)