সহপাঠীর আবৃত্তি (Sohopathir Abritti)

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

সহপাঠীর আবৃত্তি
কলমে — সুব্রত পণ্ডিত
সংকলন — প্রেমের ভোরাই (প্রথম খণ্ড)

হারানো দিনের— ধুর! ভাল্লাগেনা হা-মরি! দুর-হ!
পড়ামুয়া, মুখপোড়া— ভালোবাসার পাহাড়-প্রমাণ স্মৃতি।
হঠাৎ জেগে উঠে খুঁজে বেড়ায় মন—
কেমন ছিলাম, কেমন কাটাতাম দিন—
ছিলো হৃদয়ের অনুভূতি।

পুজোর অর্থ পুনর্জাগরণ,
দেহ-মন্দির দেয় সম্মতি—
আজ শুধু মনে মনে
দু’চোখের আরতি।

শৈশবের ভুল, যৌবনের কূল,
আর বাকি বয়সে নানান আজব ভিমরতি—
আসলে সবই প্রীতি।
হাতি-ঘোড়া-মশা রসাতলে—
জীবনের যুদ্ধে চাই শুধু হতে
মহান, বলীয়ান, কীর্তিমান, বিচক্ষণ মহারথী।
বিপদে-আপদে, কারণে-অকারণে
সঠিক সময়ে সঠিকভাবে
হেসে-খেলে মহান সারথি।

পড়াশোনা ভালো লাগেনা—
দিনগুলো ছিলো রঙিন।
হায়রে! নদীতে কত স্রোত বয়ে গেলো,
সময়ের কেরামতি।
বিরহ-বিচ্ছেদ, ভুল–বুঝাবুঝিতে
সহপাঠীদের অবদান চিরস্মরণীয়—
সাথী করে সমাধান-‘মেরামতি’।
মিতার প্রেরণা, যীশুর বাণী,
চোখের বাঁকা চাহনি কারো—
কারো চোখের পানিতে আমি নদী ইছামতি।

আজ অপরূপ সাজে সজ্জিত তুমি—
কি অপরূপা তুমি!
তুমি কিরণময়ী—
আজ তুমি ও-গো শ্রীমতি।
অর্পিতা, দীপালী, রিতা, শিবানী,
সুপর্ণা, স্বর্ণলতা, দীপ্তি—
আরও অনেকে হলো ঘরণী, আয়ুষ্মতি।

বলতে দাও, বলতে দাও—
হৃদয়ের মন থেমো না…
যেও নাকো, যেও না দূরে—
নিও না, নিও না কোনো ‘বিরতি’।
শোনো গো শোনো—
ভেবো নাকো এত—
কে তোমার? কি তোমার?
সময় থামবে না, তাই করি আকুল-আকুতি।

তোমারে সঁপিয়া আমি মজা করি,
মুক্ত হয়ে খেলা করি—
এক পলকে দেখতে চাই
মুচকি হাসির মূর্তি।

সন্দীপ, সুহৃত, সেবাশীষ, দেবব্রত,
প্রদীপ, মানিক, সমীর, সুবল, দুলাল, চন্দন—
আরো কত সাথী!
দিনগুলো বড়-ছোট এলোমেলো ছিলো—
হঠাৎ আবার ফিরে এলো
শ্বাস-প্রশ্বাস—
তাই আজ খুশিতে মাতি।
উজ্জ্বল, তপনে, রাজীব, বিশ্বজিৎ,
বাচ্চু, গৌরাঙ্গ হলো—
কমলে বুদ্ধদেব-নির্মল
তালে নাচে সহপাঠী।

হায়! পুলোকেশ… হায় ধনঞ্জয়!
অজানায় ভালোই থাকিস—
হতে পারলি না একতা বলের লাঠি।
পুনর্মিলন হবে কিনা জানিনা—
আবেগে হারালাম…
ভাসতে চাই মোরাও সুকুমার—
নয়তো… হয়তো মাটি।

আনন্দের মাঝে হারানোর ভয় থাকবেই,
তবুও আত্মহারায় বাঁচি—
ধরেছি আনন্দে-আনন্দের খুঁটি।
তোরা পড় আর কৌতুক কর—
আগামী প্রজন্মের কাছে কবিতা পড়া-মানেই
বোঝা বড্ড ঝুঁকি।
জানি জানি—
একে একে যাওয়ার বেলায় মনে হবে—
কথা হলো তবুও রইলো
কথা খানিক বাকি।
হারানো স্বপ্নগুলাই স্মৃতির পটে সাজানো আছে—
পুনরায় হারানো ছবিগুলি কবিতায় আঁকি।
যা হচ্ছে ভালো হচ্ছে, যা হবে—
ভালোই হবে হয়তো…
খুঁজে পেলাম না এই ভাবনার
মতি-গতি।

জননী-জন্মভূমির থেকে নেওয়া দেনার
কিছুটা শোধ করতে চাই—
সাথে থেকো সহপাঠী,
সাথী অতি-অতি।
পুরোনো ইতিহাসে নতুন বাসর,
সঞ্চয়ের নাম ‘ফাঁকি’—
চিরঅমর ভালোবাসা
হোক না ক্ষণিকের অতিথি।

হাসি-ঠাট্টায় নেই পিছুটান,
চুকলিবাজির চুলকানি—
হারামির মস্তানিতে
অবিরাম বাড়ুক ফুর্তির কীর্তি।

বাঁধন–সংরক্ষণ–অভিমান–ভয়—
সময় নেই! সব মিছে অজুহাত।
মানুষই দেবতা—
মনুষ্যত্ব দেবতার মূর্তি।
স্মৃতি রেখে যেতে চাই তবুও—
ওরাও যে সাথী-সারথি!
একদিন মজলিসে শোনাবে
সহপাঠীর আবৃত্তি।
কঠিন কবিতা পড়ে চোখে জল এলে—
নিও আমার উৎসর্গ।
আজ আর নয়…
ভালো থাকিস— ইতি!

তবুও ভালোবাসি তোমায়—
সত্যি কথায় দিলাম অঞ্জলি।
দিও নীরবে পুষ্পাঞ্জলি—
তুমি সহপাঠী,
আমি সাথী।।

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 90Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

পরিচিতি বাড়াতে একে অপরের লেখায় মন্তব্য করুন। আলাপের মাধ্যমে কবিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। জমিয়ে তুলুন কবিতার আড্ডা।