প্রাপককে পাওয়া যায়নি Prapokke Paowa Jayni

প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন :--👍

Loading

প্রাপককে পাওয়া যায়নি
কলমে— সুব্রত পণ্ডিত

প্রযত্নে—ভালোবাসা,
ঠিকানায় লেখা ছিল একটি নাম,
খামে জমে ছিল কত না বলা কথা,
কত অভিমান,
কত অবসানহীন সন্ধ্যার ঘ্রাণ।

ডাকপিয়ন ফিরিয়ে দিল চিঠি—
“প্রাপককে পাওয়া যায়নি।”

আমি চুপ করে রইলাম…

চিঠির ভাঁজে ভাঁজে রেখেছিলাম
কিছু পুরোনো সকাল,
এক মুঠো অপেক্ষার বিকেল,
আর চোখের কোণে জমে থাকা
আনন্দের দু’ফোঁটা জল।

ভেবেছিলাম—
একদিন হয়তো খুলবে দরজা,
হয়তো বলবে—
“এতদিন কোথায় ছিলে?”

কিন্তু দরজার ওপাশে
শুধু অসহায় শূন্যতা দাঁড়িয়ে ছিল।

শুধু জানি,
তোমার এখন ঠিকানা বদলেছে,
কিন্তু বদলাতে পারো না তুমি।

তাই লিখি—
ভালোবাসা যায় না থামানো,
না-পাওয়ার ব্যথাগুলো
শব্দে যায় লুকানো।

শেষ পাতায় এসে
কলমটা থেমে গেল।
নাম লেখার মতো শক্তি ছিল না,
তবু অভ্যাসের বশে লিখে দিলাম—

প্রযত্নে—ভালোবাসা,
ঠিকানা—হারিয়ে যাওয়া এক হৃদয়।

আর একেবারে নিচে—
কাঁপা হাতে,

ইতি—বিবেক।

ডাকপিয়ন,
চিঠিটা আবারও ফিরিয়ে দিও না,
এবার আর কোনো ঠিকানা লিখিনি—
যেখানে ভালোবাসা পৌঁছায় না,
সেখানে অন্তত
আমার চোখের জলটুকু
পড়ে থাকতে দিও।

তারপর একদিন
খবর ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে—

“প্রাপককে পাওয়া যায়নি।”

নাম ছিল,
ঠিকানা ছিল,
চিঠিও ছিল—
শুধু মানুষটি ছিল না।

শেষ ঠিকানার ঘরে
একটি নিথর দেহের পাশে
পড়ে আছে সেই চিঠি—

প্রযত্নে—ভালোবাসা।

আর নিচে কাঁপা অক্ষরে—

ইতি—বিবেক।

ডাকপিয়ন,
কোন ঠিকানায় দেবে চিঠি?

প্রাপককে পাওয়া যায়নি।।

0

Publication author

0
গ্রাম- ধলহরা, ডাকঘর- নেকুড়সেনী, থানা- দাঁতন, জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১৪৫১
Comments: 0Publics: 102Registration: 24-10-2025
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted